• আজঃ রবিবার, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা সংক্রমণ রোধ সর্বোত্তম উপায় – পলক

মোঃ বেলায়েত হোসেন -প্রতিনিধিঃ


বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে প্রায় এক কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছুঁইছুঁই। আমাদের দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে বহু আগেই এবং মারা গেছে প্রায় এক হাজার ৭০০ মানুষ। দেশের এই দুঃসময়েও বরাবরের মতো জনগণের পাশে আছেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

করোনার সংক্রমণ রোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি। দূরদর্শী এই তরুণ নেতা দেশে করোনা বিস্তারের আগেই বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পরিস্থিতি আঁচ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এজন্য করোনা পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, খাদ্য, ত্রাণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছেন।

অন্যদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নিজ দপ্তরের কাজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলমান রাখতে পেরেছেন। একইসাথে নিজের নির্বাচনী এলাকায় সংক্রমণ ঠেকাতে সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন তিনি। করোনার এই প্রাদুর্ভাবের সময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কর্মতৎপরতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সবার দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। এই নিবন্ধে তাঁর সামগ্রীক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার প্রয়াস চালানো হবে।

অনলাইন সাংবাদ সম্মেলনঃ
করোনা বিস্তারের শুরুতেই যখন বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে শারীরিক উপস্থিতি নিয়ে সংবাদকর্মীগণ প্রশ্ন তুলছিলেন ঠিক তখনই (২০ মার্চ) তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম অনলাইনে সাংবাদ সম্মেলন করেন। তারই দেখানো পথ ধরে পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় এই ট্রেন্ড চালু হয় যেখানে আইসিটি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ভার্চুয়াল অফিসঃ
করোনা ভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আইসিটি বিভাগের এটুআই কর্তৃক প্রবর্তীত ই-নথির মাধ্যমে প্রতিটি সরকারি অফিস তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালু রাখে। গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও পথ বাতলে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী; সবার স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বজায় রেখে কাজ চলমান রাখতে ২৩ মার্চ থেকে তিনি নিয়মিত অনলাইনে জুম অ্যাপের সাহায্যে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ সব ধরণের সভা পরিচালনা শুরু করেন।

নিজ এলাকায় তৎপরতাঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতিতে নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন চলনবিলের মাটি ও মানুষের নেতা পলক। অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণের পাশাপাশি ধানকাটা শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কৃষকের মাঝে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কম্বাইন হার্ভেস্টার ও রিপার মেশিন হস্তান্তর করেন। দলীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে নিজেও সরাসরি ধান কাটায় অংশগ্রহণ করেন। নাটোরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করেন। এক সময়ের ২৩ চরমপন্থীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে গত ২৮ এপ্রিল তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুদান। চলনবিলের সাধারণ মানুষ করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ও তাদের সন্তান পলক-কে আগের মতোই পাশে পেয়ে স্বস্তিতে আছে।

ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগঃ
আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে কয়েকটি দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদক কোম্পানি গত ৩১ মার্চ ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষাকারী ভেন্টিলেটরসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে তারা কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ এপ্রিল বিশ্বখ্যাত মেডিকেল যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিক্স ও ওয়লটনের কারিগরী সহযোগিতায় দেশেই তৈরি হয় বিশ্বমানের পিবি-৫৬০ মডেলের স্পেসিফিকেশনে ‘ডব্লিউপিবি-৫৬০ ভেন্টিলেটর’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবাঃ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে চালু হয় ‘প্রবাসবন্ধু কলসেন্টার’। ফলে সৌদিআরব ও বাহরাইনে কর্মরত প্রায় ২৪ লাখ প্রবাসী ঘরে বসেই সেবা নিতে পারছেন স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তারগণের মাধ্যমে। আইসিটি বিভাগের সার্বিক সহায়তায় জনগণের কাছে গুজব বা মিথ্যা তথ্যের বিপরীতে সঠিক ও সর্বশেষ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে হোয়াটসঅ্যাপের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ব্যবহারকারীর জন্য ২৩ এপ্রিল একটি ইনফোবট চালু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে জনপ্রিয় ভাইবার বটে ০২ মে চালু করা হয় ‘লাইভ করোনা টেস্ট’। অন্যদিকে ভার্চুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ১৪ এপ্রিল চালু করা হয় ‘হ্যালো ডক’। প্রাথমিকভাবে এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ জনের বেশি ডাক্তারের সমন্বয়ে একটি দক্ষ টিম রোগীদের সেবা প্রদান করছেন।

বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জঃ
করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঘরে বসে নিজের বাড়ি, হাসপাতাল ও ফার্মেসিসহ প্রয়োজনীয় স্থানের তথ্য একটি ম্যাপে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ০৮ এপ্রিল শুরু হয় ‘বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ’ ক্যাম্পেইন। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক-এর পরিকল্পনা মোতাবেক এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে আইসিটি বিভাগের সাথে কাজ করে বাংলাদেশ স্কাউটস ও গ্রামীণফোন। ডিজিটাল সার্চিং ম্যাপে সংযুক্ত করার মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্থানের তথ্য ম্যাপে সংযুক্ত করা শুরু হয় পলকের আহ্বানে।

কল ফর নেশনঃ
বর্তমান ও ভবিষ্যতের জাতীয় সংকট মোকাবেলায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে “কল ফর নেশন” প্লাটফর্ম তৈরি করা হয় গত ৩০ মার্চ। উদ্যোক্তাবান্ধব এ প্লাটফর্মের আওতায় ‘কভিড-১৯’ প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করতে অনলাইন প্রতিযোগিতা আহ্বান করা হয়। গত ৮ জুন দেশের তরুণ বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের জমা দেওয়া ৬৮১টি প্রকল্প থেকে ৬টি ক্যাটাগরিতে ৬টি প্রকল্পকে বিজয়ী ঘোষণাসহ সর্বমোট ৩৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গত ২২ জুন শুরু হয় ‘জাতীয় হাই-স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২০। এর আগে ৬২টি দলের অংশগ্রহণে দেশে।


জুনাইদ আহমেদ পলক
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।