• আজঃ রবিবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সৌদি আরবে ফ্রি ভিসায় কাজ করার ঝুকি ? জানতে হলে পড়ুন

সৌদি আরবে আইনত ফ্রি ভিসা বলতে কিছু নেই এটা প্রায় সকলেই জানি, মালিক-শ্রমিকের মৌখিক আপোষের ভিত্তিতে মালিকের কাজের বাইরে নিজ দায়িত্বে অন্যত্র কাজ করাকে ফ্রি ভিসায় কাজ বলে পরিচিত। এইভাবে কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ এবং এতে কর্মির মারাত্তক ঝুকিতে পড়ার সম্ভাবণা থাকে।

সমসাময়ীক দুইটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাইঃ

১-সৌদি প্রবাসী জনাব এনামুল (রুপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ), তাঁর স্পন্সরের কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নিজ দায়িত্বে অন্যত্র কর্মরত ছিলেন, মালিকের সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল না, পাসপোর্ট ইকামা এক্সপায়ারড, এই অবস্থায় হঠাত ব্রেন ষ্টোক করে আল জাহরা হাসপাতালে ভর্তি হন, সেখান থেকে ক্বাতিফ জেনারেল হাসপাতালে ট্রান্সফার করা হয় তাকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে, দীর্ঘদিন আইসিইউতে তাঁর চিকিৎসা চললেও বিগত ০৩/০৯/২০১৯ইং তারিখে মৃত্যু বরণ করেন।

সে আইসিইউ তে থাকাকালীন পরিবারের সাড়া না পাওয়া, পরবর্তিতে হাসপাতালের অনুমতি না পাওয়ায় তাকে দেশে প্রেরণ করা যায় নি। তাঁর মৃত্যুর পর অনেক চেষ্টা তদবির করে লাশ গ্রহণকারীর নাম সংগ্রহ করে লাশ প্রেরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বাধা আসে সৌদি ব্যুরো অব ইনভেস্টীগেশন থেকে, তারা নিয়ম মোতাবেক মৃতের পরিবার হাসপাতালের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণের যে উল্লেখ হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট আছে এই রকম একটি সম্মতি পত্র চায়। দুতাবাস, মৃতের এক বন্ধু (একই এলাকার) এবং মৃতের স্পন্সর দীর্ঘদিন যাবত যোগাযোগ করেও পরিবার থেকে এক টুকরো কাগজ সংগ্রহ করতে পারিনি। কখনো ফোণ বন্ধ, কখনো বিব্রতকর উত্তর এসব শুনেই ফোন রেখে দিতে হয়েছে।

জানিনা আর কতদিন লাগবে এই সমস্যার সমাধান করতে। এদিকে সৌদি আইন মোতাবেক দুই মাসের মধ্যে মৃতের ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে সাড়া না পেলে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করার নিয়ম রয়েছে। এই প্রবাসী তাঁর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পরিণাম কি এই হওয়া কাম্য ছিল?

২-সৌদি প্রবাসী বিলাল (নারায়নগঞ্জ), পুর্বাঞ্চলের আল খোবার এলাকায় ফ্রি ভিসায় কাজ করতেন। ষ্টোক করলে তাকে সহকর্মিরা হাসপাতালে ভর্তি করেন, আজ প্রায় এক বছর সি সি ইউ তে ভেন্টিলেশনে বেচে আছেন। হুশ জ্ঞান নেই। ইকামা-ইন্সুরেন্স সব এক্সপায়ারড।

হাসপাতালের বিল এসেছে কয়েক লক্ষ রিয়াল, রোগিকে এই অবস্থায় ট্রাভেল করানোর অনুমোতি নেই। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাঁর নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাঁর পরিবারকে খবর জানানো হয়েছিল সেই ৫/৭ মাস আগে। কেউ তাঁর খোজ নেয় না। নিলেও তাকে দেশে প্রেরণ করা সম্ভব নয়। কোন এক সময় সে মারা গেলে তাঁর লাশের বিহিত করা নিয়েও নানা ঝামেলা থাকার সম্ভাবণা অনেক বেশি। ফ্রি ভিসায় এই প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও আজ এই অবস্থা।

অথচ এই দুইজন যদি রেগুলার কাজে স্পন্সরের অধীনে থাকতেন, তাহলে বেতন হয়ত কম পেতেন কিন্তু আর্থিক অসহায়ত্বের চাপ হয়ত তাদের সে রকম থাকত না। শরিরের রোগ শোক বেশি হলে কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে দেশে যেতে পারতেন। অচল হওয়া পর্যন্ত টিকে থাকার রিস্ক নিতে হত না।

-ফয়সাল আহমেদ রিয়াদ দূতাবাস ।