• আজঃ রবিবার, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

জীবনের গল্প : বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে

প্রবাস ডেস্ক:


আমার বাস্তব জীবন নিয়েঃ


—————————জীবনের গল্প


ছোটোবেলা থেকেই একটু উগ্রটে ছিলাম, টাকা ছাড়া স্কুলে নেওয়া এত সাধ্য ছিল কার! খেলাধূলা, দুষ্টুমি, চলচ্চিত্র,গানবাজনা নিয়েই ছিল চিন্তাভাবনা।

মা-বাবার ইচ্ছা ছিল পড়াশুনা করবো ভালো কিছু করবো, বাবার মত সরকারি কোনো ডিপার্টমেন্টে বা দেশেই কোনো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান চাকুরী করবো, এটাই ছিল আমাকে নিয়ে আমার মা-বাবার স্বপ্ন।আর  কোনো রকম মাথাগুজানোর মতো হলেই চলে যাবে বাবার মতো সাদামাটা জীবন।

সত্যি আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম খেলাধূলা, গানবাজনা নিয়েই অন্যান্য ছেলেদের মতো চলতে লাগলো।পড়াশুনা করার মতো কোনো মনমানসিকতা ছিল না আমার, মনে যা চায় তাই করতাম, কারো কোনো কথার দাম দিয়ে চলতাম না! হ্যা ছোট বেলা দোকানপাঠে উঠার তেমন কোনো অভ্যাস ছিল না।

সবচেয়ে বেশি ফুটবল আর ক্রিকেট নিয়েই জীবন চলতে লাগলো।এভাবে স্কুলের ক্লাস গুনতে গুনতে সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বড়ভাই হঠাৎ করেই পড়াশুনা ছেড়ে কাজে মনোনিবেশ দিলেন, ভালো লাগেনা পড়াশুনা তাই, আর পাশাপাশি ফ্যামেলিও কিছু ক্রাইসিস অবস্থায় বাবার একা রোজগার, চার ভাই বোন ভালোভাবে পড়াশুনা করার মত অবস্থা ছিল না।

যদিও তখন পড়াশুনা করার মনমানসিকতা ছিল না আমার , কিন্তু বড় ভাই পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়াতে কিছু সুবিধা হয়েছে আমার জন্যে অর্থাৎ তার পেছনে যে টাকা ব্যায় হতো সে টাকা দিয়ে এখন আমাকে পড়াবে এটাই ছিল বাবা-মায়ের স্বপ্ন, যদিও আমার পড়াশোনা করার কোনো ইচ্ছেই ছিল না।আর বাবারও যে হারে ইনকাম প্রাইভেট পড়ানোর মতো অবস্থা ছিল না, কষ্ট করে হলেও একটা প্রাইভেট আমাকে পড়াতো।

যাই হোক এভাবেই চলতে লাগলো এ দিকে ভালোভাবে থাকার মতো একটা ঘরও ছিল না, বাবার একার ইনকামে ছোট বোন ভাইয়া কোনো রকমে চলতে লাগলো।

এদিকে খেলতে গিয়ে পা ভেঙে অবস্থা খারাপ , বাবা ঘরের কাজে পেরেশানি, সবমিলিয়ে চরম একটা অবস্থা।
তারপর কোনো রকম ঘরের কাজও টেনে টুনে শেষ আমিও  সুস্থ সামনে এস.এস.সি পরিক্ষা প্রস্তুতি ছিল না তারপরও কোনো রকম পরিক্ষায় অংশগ্রহণ।

অবশেষে কোনোরকমে এস এস সি পরিক্ষায় উত্তির্ন। আলহামদুলিল্লাহ!এদিকে ভাইয়া ফ্যামেলিতে ভালো অবদানের মাধ্যমে কিছুটা সহজ হয় বাবার জন্য তাই টার্গেট আমাকে আরও পড়াবে, এদিকে ছোট বোন বিবাহ উপযুক্ত আমি যখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে সম্ভবত তখন ছোট বোনের বিবাহ সম্পন্ন করে আমার বাবা।

এভাবেই চলতে লাগলো তখন’ই আমি বাংলাদেশের একটি ইসলামী ছাত্র সংগঠন এর সাথে জড়িত হয়ে যাই, এর আগে ছাত্রদলের সাথে সংপৃক্ত ছিলাম।

আর এই সংগঠনের ভাইদের স্নেহ ভালোবাসায় আমি মোটামুটি সংগঠনের কর্মী হয়ে তাদের সাথে পথ চলা শুরু করি,একপর্যায়ে কিছু মানুষের মাঝে শত্রু হয়েও যাই,এলাকায় প্রোগ্রাময়াদি করাতে। তার পরেও খেলাধূলায় অংশগ্রহণ,মসজিদে আসা  যাওয়ার মাধ্যমে মানুষের সাথে ভালোই সম্পর্ক ছিল।

এভাবেই জীবনের আরেকটি ধাপ অতিক্রম করি এইচ.এস.সি পরিক্ষার মাধ্যমে। সাংগঠনিক কিছু কার্যক্রমের কারণে এলাকায় আগের মতো সময় দিতে না পেরে কিছু বন্ধু বান্ধবের কাছে অনেক সময় রাগারাগি করতেও হয়েছে।এবং রাগে অনেক সময় খেলা থেকে দূরেও রাখছে অর্থাৎ নিশেধাজ্ঞা।

তার পরে তো পড়াশুনা ছেড়ে একপর্যায়ে ঢাকায় চাকরি করার উদ্দেশ্যে চলে গেলাম, এদিকে সাংগঠনিক ভাই প্রিয় Masud Alam এবং Sazzadur Rahman ভাই আমাকে  ডিগ্রি পরিক্ষার জন্য তাগিদ দেয়, এবং আমি চাকরি ছেড়ে আবারো পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করি।

আলহামদুলিল্লাহ! ডিগ্রি ফাস্ট ইয়ারেও উত্তির্ন হই, অবশেষে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অবস্থার রসানলে ফ্যামিলির কথায় সৌদি আরবে আসতে বাধ্য হই।এবং দুঃবৎসর শেষে তিন বৎসর প্রায় শেষ প্রবাস নামক জেলখানায় অতিক্রম করছি।

যদিও প্রবাসে এখন প্রায় তিন বৎসর হারাম হালাল দেখতে গিয়ে এবং মানুষের ধোঁকায়, কপিলের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে এই জীবনের চাকা পরিবর্তন করতে পারিনি। আল্লাহর কাছে চাওয়া পাওয়ার মধ্য দিয়ে সবমিলিয়ে চলছে জীবন জানি না অবসর কোথায়।

সবশেষে আল্লাহর কাছে এই নিবেদন যে আল্লাহ আমি  যেন, আপনার সন্তুষ্টির মানদণ্ডে পোঁছাতে পারি আমাকে  সেই তাওফিক এনায়েত করুণ….. আমিন ।


লেখায় : আবদুল্লাহ আল মামুন