• আজঃ বুধবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মহামারি করোনা থেকে ভয়াবহ বন্যা এমপি ফারুকের মানবিক সহায়তা অব্যহত

সারোয়ার হোসেন, রাজশাহীঃ


বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাসের ধাক্কা না যেতেই আবারো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে দেশের বন্যা পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার গ্রাম অঞ্চল, রাস্তা ঘাট পল্লবিত হয়ে পড়েছে। অনেকের বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়ার জন্য প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ছাড়াও সরকারি আশ্রমে স্থান নিতে হয়েছে।

যার ফলে মহামারি করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে বেঁচে না উঠতে ফের ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করছে বন্যার কবল। এতে করে করোনা আর বন্যা ঘিরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দেশের জনসাধারণ। সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোরেও একই অবস্থা।

মহামারি করোনা দুঃসময়ের ভিতরে হঠাৎ করে বন্যার হানা দেয়ায় উপজেলার বেশকিছু বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দারা করুন মানবেতর জীবনযাপন করলেও খোঁজ নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধির। এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত পরিবারের মাঝে একমাত্র এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ত্রাণ খাদ্য সামগ্রী ও এমপির প্রতিনিধিরা ছাড়া বন্যার্তদের পাশে আর কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাঁড়ায় নি বলেও বন্যা কবলিত মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নিম্নবিত্ত পরিবারের মাঝে করোনার ভিতরে ভয়াবহ বন্যার আঘাত। একেতো করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ মানুষের কাজ কাম স্থবির হয়ে পড়েছে ঠিক তখনি তার ভিতরে বন্যার হানিতে বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে বন্যা কবলিত পরিবার গুলো।

বন্যা কবলিত কামারগাঁ ইউনিয়নের দমদমা মাঝি পাড়া গ্রামের বাবুল ইসলাম বাবুসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা জেলে পরিবার সারাজীবন বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এখন দেশে করোনা ভাইরাসের জন্য মাছের ব্যবসাও ঠিক মত হচ্ছেনা। যা একটু আকটু হচ্ছে তাতে তেমন দামও পাওয়া যাচ্ছেনা।

এমতাবস্থায় মহামারি করোনা ভাইরাস ও মহামারি বন্যার কবলে পড়ে আমরা নিম্নবিত্ত পরিবার গুলো পড়েছি চরম মানবেতর জীবনযাপনের মধ্যে। এসময় তারা আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা টিভিতে শুনতে পাচ্ছি মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে অমুক তমুক ত্রান সামগ্রী দিচ্ছে কিন্তু কই আমরা তো দেখছি মহামারি করোনা দুঃসময় থেকে শুরু করে এখন ভয়াবহ বন্যা পর্যন্ত একমাত্র এমপির পক্ষ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ময়না আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে একের পর এক ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

তাছাড়া এখন পর্যন্ত কেউ আর আমাদের খোঁজ নেয়নি। এমনকি চেয়ারম্যান মেম্বাররাও আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি বলে তারা জানান।

তানোর পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বন্যা কবলিত এলাকা কুঠিপাড়া ও শিতলী পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি মত বাড়ি বন্যায় ডুবে যাওয়ার কারণে পরিবার গুলোকে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভিতরে ভাড়া নিয়ে হচ্ছে থাকতে। অনেকের অবস্থা বেশী করুন হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষের উঠানে বসতি গড়ে করতে হচ্ছে বসবাস।

কুঠিপাড়া গ্রামের এক মহিলা নাম আন্জুয়ারা ও সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়িতে পানি ঢুকে ঘরে হাঁটু পর্যন্ত পানি। তার পরেও আমাকে পরিবার নিয়ে পানির মধ্যে বাড়িতে থাকতে হয়। আমরা গরীব মানুষ বাড়ি ভাড়া নিয়ে তো আর থাকতে পারবনা তাই পানির ভিতরে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে।

তার পরেও এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো খোঁজ খবর নেয়নি পৌরসভার মেয়র সাহেব। অথচ কোনো জনপ্রতিনিধি না হয়েও আবুল বাসার সুজন আমাদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া এখন পর্যন্ত আমাদের পাশে ত্রাণ সাহায্য নিয়ে কেউ আসেনি বলে জানান তারা।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তরুণ সমাজসেবক ও আগামী তানোর পৌরসভার আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আবুল বাসার সুজন বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি হয় আর না হয় আমি তানোর পৌরবাসীর পাশে থেকে তাদের সেবা সহযোগিতা করে যেতে চাই। আমি মাননীয় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় তার পক্ষ থেকে তানোর পৌর এলাকার বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছি এবং আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তানোর পৌরবাসীর পাশে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের সহযোগিতা করে যাব ইনশাআল্লাহ বলে জানান।

তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না জানান, মহামারি করোনা ও তার উপরে বন্যার কবল। এতে করে উপজেলার বন্যা কবলিত নিম্নবিত্ত পরিবার গুলো পড়েছে চরম বিপদের মুখে। তারা না পারছেন বাহিরে যেতে না পারছে কাজকর্ম করতে। যার ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছে চরম খাদ্য সংকটে।

আমার পরিষদ থেকে আমি যতটুকু পারি ততটুকু তাদের জন্য সাহায্য করে আসছি। এছাড়াও আমাদের স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষ থেকে প্রতিদিন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যারা চক্ষু লজ্জার ভয়ে ত্রাণ সামগ্রী চাইতে পারছেনা তাদের জন্য করোনা ভাইরাস দুঃসময় থেকে হটলাইন চালু অব্যহত রয়েছে। আমাদের এমপি সাহেব করোনা দুঃসময় থেকে শুরু করে ভয়াবহ বন্যার মধ্যেও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও হটলাইনে ত্রাণ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া কার্যক্রম থাকবে বলে তিনি জানান।