• আজঃ রবিবার, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বন্যার পরিস্থতি অবনতি এলাকার খোঁজ খবর নিলেন -পলক

মোঃ বেলায়েত হোসেন নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ


বর্তমানে আত্রাই নদীর পানি ২৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমার নির্বাচনী এলাকা নাটোরের সিংড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ইতিমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

আজ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পূর্ববর্তী করণীয় সম্পর্কে ডিজিটাল প্লাটফর্মে নাটোর জেলার ডিসি, এসপি, খাদ্য কর্মকর্তা, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা, সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেছি।

বিগত ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় চলনবিলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। বন্যাকালীন সময়ে বন্যাদুর্গত ব্যক্তিদের জন্য সাতাশটি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে সেখানে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তিনবেলা খাবারের এবং আশ্রয় কেন্দ্রে কুরবানির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি পরিবারের পুনর্বাসন করা, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামত করা হয়েছিল। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকার পরও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল বর্তমানে সিংড়া উপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মেরামত করে আগের তুলনায় উঁচু করা হয়েছে।

চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে পানিতে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হতে পারে। তাই এবার বন্যা পূর্ববর্তী সময়ে আমরা এর প্রস্তুতি কিভাবে গ্রহণ করলে আমার প্রাণের চলনবিলের মানুষদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায় সে বিষয়ে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকা নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া, ইটালি, কলম, চামারি, শেরকোল লালোর, ছাতারদিঘী, চৌগ্রাম সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সেই সকল এলাকায় প্রয়োজনে গতবারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্ব স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বাঁধের ভাঙ্গন রক্ষায় সেখানে বালির বস্তা দিতে এবং ভবিষ্যতে মেরামতের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ও এলাকা তালিকাভুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে।স্থানীয়দের বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচলে বিরত থাকতে হবে।

বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ মজুদ রাখার জন্য বলা হয়েছে।উপজেলা জনস্বাস্থ্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এর প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও মজুদ রাখার জন্য বলা হয়েছে।

সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতাল ও থানায় জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। আর কিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। আমাদের নাটোর জেলায় প্রায় ৯ হাজার খামারি আছে যারা গবাদিপশু লালন-পালন করছেন। আপনাদের জানাচ্ছি যে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা নাটোরে একটি মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন করবো যার মাধ্যমে ঘরে বসেই আপনারা নিশ্চিন্তে কোরবানির পশু ক্রয় বিক্রিয় করতে পারবেন।

পাশাপাশি জানাতে চাই কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে পকেটমারদের দৌরাত্ম বেড়ে যায় এবং নকল টাকার লেনদেন চলে। এ থেকে সচেতনতায় সবগুলো হাটে মাইকিং ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় থাকার বিষয়ে বলা হয়েছে এবং আত্রাই নদী ও চলনবিলের খাল বিলে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

চলনবিলের মানুষের পাশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিগতদিনে ছিলেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন। ইনশাল্লাহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্যাসহ সকল দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সক্ষম হবো।