• আজঃ শনিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে গণস্বাক্ষর অভিযানের আহ্বান

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশ ও বিদেশের সকল বাংলাদেশিকে গণস্বাক্ষর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, “যদি আমরা কয়েক লাখ বা এক কোটি স্বাক্ষর আনতে পারি… আমরা সেই সব দেশের (যেখানে খুনিরা এখন বসবাস করছে) তাদের (খুনিদের) ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ বাড়াতে পারবো।”

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু নিয়ে জনতার প্রত্যাশা আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু খুনের সাজাপ্রাপ্ত দুই খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরী যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বসবাসকারী হিসেবে শনাক্ত। অন্যদিকে, তিন পলাতক খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেহউদ্দিন খানের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।

দুই খুনির অবস্থান জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় তাদের ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে “মুজিববর্ষের” মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, রাশেদ চৌধুরী মার্কিন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলো এবং এখন সেখানে তার অভিবাসন মামলা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

নূর চৌধুরী সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কানাডার আদালতে বাংলাদেশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তা জিতেছে। কিন্তু, এখনো নূর কানাডার কিছু আইনি ভিত্তি দেখাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। মোমেন বলেন, কানাডায় বসবাসকারী প্রবাসীসহ বাংলাদেশীদের স্বাক্ষর প্রচারণা নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করার জন্য বাকি তিনজন পলাতক খুনিকে শনাক্ত ও প্রেরণ করতে ঢাকা বিশ্বের সব দেশের সহযোগিতা চেয়েছে।

মোমেন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুনিদের খোঁজে বিদেশের সকল বাংলাদেশ মিশনকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র তিন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সরকার তাদের ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন দেশে ও বিদেশে আমাদের জনগণের সহায়তা দরকার।”

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাদের নিজ নিজ দেশে চিহ্নিত পলাতক খুনিদের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের আহ্বান জানান, যাতে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানতে পারে একজন খুনি তাদের পাশে থাকছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে হত্যার জন্য বারোজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া পাঁচ সেনা সদস্য- সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, মহিউদ্দিন আহমেদ ও বজলুল হুদাকে ২০১৮ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং অপর দণ্ডপ্রাপ্ত কর্নেল রাশেদ পাশা জিম্বাবুয়ে পলাতক অবস্থায় মারা যায়

ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ খান, আর্টিলারি মহিউদ্দিন আহমেদ বিচারিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়। অপরদিকে, হুদা থাইল্যান্ড থেকে বিতাড়িত হয়েছিল এবং তৎকালীন জেলা জজ গোলাম রসুল রায় দেওয়ার পরে মহিউদ্দিনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আনা হয়েছিল।