• আজঃ বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত অমানবিক বলছে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে বিদেশ যেতে না দেয়াকে অমানবিক বলছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। শর্ত প্রত্যাহার করে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুযোগ দেওয়া দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিনে পূর্বের যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে এটা আমানবিক। যদি শাস্তি স্থপতি করবে তাহলে বেগম জিয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত, যেখানে ইচ্ছে সেখানে তিনি চিকিৎসা করবেন। এই শর্ত প্রত্যাহার করে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুযোগ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। যে শর্ত দেওয়া হয়েছে এটা অমানবিক।

বেগম জিয়ার পরিবারের পাশাপাশি বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য কোন আবেদন করবে কিনা জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে সবসময় দাবি করে আসছি। পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছিল সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়, কিন্তু সেটা তারা (সরকার) করেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টা তারা (সরকার) ইচ্ছে করে আটকে রেখেছেন। আর তার সাজা স্থগিত, এটা বলতে গেলে কারাগারেই। এটাও কারাগার, মানে উনি মুক্ত নন। এতে জামিন পুরোপুরি বলা চলে না। জামিন মানে ফ্রীলি চলাফেরা করতে পারে সেই অবস্থার মধ্যে ম্যাডাম নেই।

সেলিমা বলেন, জামিন দিলেও তারা যে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তার অর্থটা কি? তার অর্থ হচ্ছে যে করে হোক ম্যাডামকে একদিক থেকে হয়রানি করা, অন্যদিকে তার স্বাস্থ্যগত অবনতি হোক এটাই হচ্ছে তাদের ইচ্ছে। এখন আইনগত চেষ্টা ছাড়া আর কিছু তো আমাদের হাতে নেই। আমরা তো আর কিছু করতে পারছিনা। কারণ আইনতো তারা আটকে দিয়েছে। বিচারক তো স্বাধীন নয়, বিচারকতো চলছে উপর থেকে যা বলছে সেই কথা মত।

সরকারের উদ্দেশ্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আপনি মানবতার দোহাই দিয়ে প্রচার করলেন তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দিলাম, তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই মুক্তি তো সেইরকম মুক্তি হয়নি। তার পায়ের শিকল খুলে দেয়া হয়েছে, কিন্তু তাকে খাঁচার মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। এটাতো মুক্তি হল না। একজন মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে তার চিকিৎসা। যেটা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেকটি মানুষ তার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রাপ্য। তার পছন্দ অনুযায়ী যদি চিকিৎসা না করাতে পারে সেই তাহলে সেই জামিনের তো কোন যথার্থতা নেই। যে কারণে খালেদা জিয়ার প্রতি অনুকম্পা বা দয়া দেখানো হয়েছে সেটা তো মূলত তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে আবেদন করেছেন বিএনপি সেই পথে যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনোরকম রাজনৈতিক বাকবিতন্ডা বা দরকষাকষির মধ্যে আমরা যেতে চাচ্ছি না। পরিবার যদি মনে করে দলেরও এখানে প্রয়োজন তখন আমরা দেখবো।