• আজঃ বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা র‍্যাবের

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে র‌্যাব সদর দপ্তরে আশিক বিল্লাহ বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান এখনো অব্যাহত আছে। তবে আগের মতো ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা হয় না বললেই চলে।  অনলাইনে কেউ কেউ পরিচালনা করছে।  আমরা তাদের নজরদারিতে আনার চেষ্টা করছি। যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের এক বছর পূর্তি আজ (১৮ সেপ্টেম্বর)। ২০১৯ সালের এই দিনে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর অনেক দুর্নীতিবাজের সাম্রাজ্যের পতন হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্যাসিনোবিরোধী ৫৪টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।  এর মধ্যে ২১টি মামলার চার্জশিট দেওয়া হলেও বাকি মামলা র‌্যাব ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা মামলাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছি। এরই অংশ হিসেবে যেকোনো সময় তদন্ত শেষ করে মামলাগুলোর চার্জশিট দেওয়া হবে।  ইতিমধ্যেই গেন্ডারিয়ায় দুই ভাই এনামুল ও রুপমকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।  একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে সিআইডির এক হিসেবে দেখা গেছে, ওই সময় থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০) পর্যন্ত ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রকদের দখলে থাকা ৪০৫ কোটি  ৪৮ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে।  বিভিন্ন দেশে কী পরিমাণ টাকা পাচার করা হয়েছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান জানা না গেলেও সেগুলো ফেরাতে সরকার বা তদন্ত সংস্থা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের প্রথম দিন ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব ও ঢাকা ওয়ান্ডারর্স ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর ওই বছরের ছয় অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৎকালীন সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে।

এরপর একে একে গ্রেপ্তার হন গণপূর্তের ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিফুল আলম ফিরোজ, অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান সমন্বয়কারী সেলিম প্রধানসহ অনেকে।  এছাড়া অভিযানের পর অনেকেই দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।