• আজঃ বৃহস্পতিবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মহামারি দেখিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘকে এখন বেশি প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

চলমান বৈশ্বিক প্রাণঘাতী মহামারি কোভিড-১৯ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই মহামারি আমাদের ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনকে আরো কঠিন করে দিয়েছে। চলমান মহামারিসহ বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ ধরনের সংকট মোকাবিলার অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। এই মহামারি দেখিয়ে দিয়েছে যে উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশকেই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জাতিসংঘকে এখন বেশি প্রয়োজন।’

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এই প্রথম ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭৫তম সাধারণ অধিবেশন। অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সংস্থাটির সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আর সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা স্ব-স্ব দেশ থেকে অংশ নেন ভার্চুয়ালি। অধিবেশনে সূচনা বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস।

অধিবেশনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে ধরেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অবদানের কথা। বলেন, বাংলাদেশ সব সময় শান্তির পক্ষে বিশ্বাসী।

শান্তিরক্ষী বাহিনী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে এখন আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি সৈন্য ও পুলিশ সদস্য রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, বিশ্বের সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোর শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ১৫০ শান্তিরক্ষী সদস্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সঙ্গে একই সময়ে হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, জাতিসংঘ ভবিষ্যতে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। এটা জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিকতার ওপর বাংলাদেশের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রমাণ। অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি জাতিসংঘের সব কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অনেক উপকৃত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ জাতিসংঘের কাছে ঋণী।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে বহুপক্ষীয় সুসম্পর্কই সব সমস্যা মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলা বিশ্ববাসীর জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সুস্পষ্টভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবার কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত’ একটি রোডম্যাপ তৈরির জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘকে সঠিক লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সুস্পষ্টভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত একটি রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত।’

শেখ হাসিনা জাতিসংঘকে দুর্বল করে এমন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন না দেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই জাতিসংঘকে দুর্বল করে এমন কোনো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। আমরা এটা পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে পেয়েছি। এ জন্য তাদের কাছে আমরা ঋণী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদেরও জাতিসংঘকে একটি সত্যিকার অর্থে সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক কার্যকর সংস্থায় পরিণত করতে হবে।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলতে চাই যে আমরা এমন অনেক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেছি, যা আমাদের মানব সভ্যতার নতুন ইতিহাস গড়ে তুলেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশন এ ধরনের আরেকটি মুহূর্ত আমাদের সামনে এনে দিয়েছে।’

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনে মূল ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অন্য বিশ্বনেতাদের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পূর্বে ধারণকৃত ভাষণ দেবেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি বাংলায় বক্তৃতা দেবেন।