• আজঃ বৃহস্পতিবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে – পলক

নগর ২৪ /মোঃ বেলায়েত হোসেন, নাটোরঃ


হাইটেক পার্কে আগামী তিনবছরে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আজ ২১ জুলাই মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সপোর্ট কম্পেটেটিভনেস ফর জবস ইসিফোরজে প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনমিক জোনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে বেজার ১০ একর জমির উপর এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্ক-এ ৪ একর জমির উপর দু’টি টেকনোলজি সেন্টার গড়ে তোলার জন্য জুম প্ল্যাটফর্মে জমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে আজ অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনীতি সচল রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসেছেন। তথ্য প্রযুক্তি খাত দেশের জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। এই মুহূর্তে দেশে ৫টি হাইটেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘স্বপ্ন পরিকল্পনা’ ডানা মেলে প্রকল্পটির অধীনে ইতোমধ্যে সাড়ে ৩০০ একর জমি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

গত ৮ বছরে সরকার এখানে ৪৯৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বেসরকারি খাত থেকে। এর বিপরীতে ২০১৬ সাল থেকেই হাইটেক পার্ক থেকে আয় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৫০ কোটির টাকার বেশি আয় করেছে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ১৩ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ১১০টিরও বেশি স্টার্টআপ ও বড় কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করেছে। আশা করছি, ২০২৩ সালের মধ্যে এখানে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, চুক্তির মাধ্যমে কালিয়াকৈরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের সাড়ে ৫ একর জমিতে শিঘ্রই থ্রিডি প্রিন্টিং, ডিভাইস ডিজাইন ও টেকনোলজি ইনোভেশনে প্রযুক্তিকেন্দ্র স্থাপন করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, চট্টগ্রামে সফটওয়্যার টেকনলোজি পার্ক, শেখ হাসিনা ইন্সটিটিউট অব ফন্টিয়ার টেকনলোজি, ১১টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর ও ট্রেনিং সেন্টার এবং বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভিস অ্যান্ড ইমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রযুক্তিকেন্দ্র (ডিটিসি) থ্রিডি প্রিন্টিং, ডিজাইন সেন্টার, ডিভাইস ও টেকনোলজি ইনোভেশন ছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন সেন্টার, ইনকিউবেশন সেন্টার, আইসিটি এবং মোবাইল টেকনোলজি নিয়ে কাজ করবে।

চুক্তি সম্পাদনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান চলাকালেই বেজা কার্যলয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইসি৪ জে প্রকল্প এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত চুক্তিতে সই করেন বেজার নির্বাহী সচিব মোঃ আব্দুল মান্নান এবং ইসি৪ জে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ ওবায়দুল আজম। একইস্থানে ইসি৪ জে প্রকল্পের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে সই করেন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক এ এন এম সফিকুল ইসলাম।

সালমান এফ রহমান বলেন, আইটি খাতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। হাইটেক একটি বড় খাত। এটি পণ্য বহুমুখীকরণে অনেক সহায়ক হবে। টেকনোলজি সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হলো। এখানে অনেক দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রপ্তানি পণ্য বহুমূখী করনে এ সেক্টর বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং রপ্তানি বাড়বে। চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অর্থনৈতিক সংকটের সময়েও বাংলাদেশ থেমে নেই। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

টিপু মুনশি বলেন, টেকনোলজি সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। এখানে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের আধুনিকায়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ, ডিজাইন তৈরি ও উদ্ভাবনে সহায়তা, উৎকর্ষতা বাড়ানো এবং দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতার চাহিদা নতুন নতুন পণ্যের দিকে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজার দখল করতে অল্প সময়ের মধ্যে মান সম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করা জরুরি।

এ প্রকল্প দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র আনতে সহায়ক হবে। কেন্দ্রটি নতুন নতুন কারিগরি প্রযুক্তি সংযোজন, আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য সরবরাহ, বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি, পণ্যের মান উন্নয়ন, ব্যান্ডিং ও বিপণনসহ সামগ্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক মোঃ ওবায়দুল আজম বলেন, ইসিফোরজে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো রফতানি সম্ভাবনাময় খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, প্লাস্টিক ও হালকা প্রোকৌশল খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী করে গড়ে তোলা। আশা করছি, এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামীতে এসব পণ্যের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে।

ভার্চুয়াল এই চুক্তি শ্বাক্ষর অনুষ্ঠানের শেষ মূহুর্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক হাইটেক পার্ক এ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ার অনুরোধ করেন।