• আজঃ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

আমি নিজেকে আপনার কাছে বিক্রি করতে চাই-বেখেয়ালি হিমু

বেখেয়ালি হিমু
আমি নিজেকে আপ’নার কাছে বিক্রি করতে চাই। কিন্তু বিনিময়ে আমার অনেক টাকা চাই।
নির্ঝরের বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে নি’র্ঝরকে কথাটা বললো তৃষ্ণা। নির্ঝর হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে তৃষ্ণার দিকে। সে তার নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তৃষ্ণার এইমাত্র বলা কথাটা কি সে আদৌ ঠিক শুনে’ছে!
— কোন খেয়ালে হা’রিয়ে গেলেন? আপনি তো চাচিকে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে আমাকে কিনে নি’য়েছিলেন তাই না! কিন্তু আমি এতোটাও ভ্যালুলেস নই যে আমার দাম মাত্র পাঁচ লাখ টাকা হবে।
— দেখিয়ে দিলে তো নিজের আসল রূপটা! আমি জানতাম তুমি একটা খারাপ মেয়ে। লুক ইউ প্রুভড্ মি রাইট। তুমি নিতান্তই লোভী আর সুবিধা’বাদী একটা মেয়ে।
— আপনার এতো কথা আমি শুনতে চাই না। আমি শুধু টাকা চাই। যদি টাকা দিতে পারেন তবেই আপনার কাছে থাকবো আর আপনার সব কথা শুনবো। নয়তো পালিয়ে যাবো এখান থেকে।
— এমাউন্ট বলো শুধু।
— বিশ লাখ টাকা দিবেন আমাকে। বিনিময়ে আমি আপনার সব কথা শুনবো।
— এসে পরলে তো নিজের লেভেলে! ইউ আর স্টিল ভ্যালিউ’লেস টু মি। পেয়ে যাবে তোমার টাকা।
— আজকে দিনের মধ্যে আমার দশ লাখ টাকা চাই। বাকি টা’কাটা কি’ছুদিন পরে হলেও হবে।

নির্ঝর তৃষ্ণার ব্যবহারে কিছু’ক্ষণ থম মেরে দাড়িয়ে তৃষ্ণার মুখ বরাবর স্থির দৃষ্টি রাখে। তৃষ্ণার এই রূপ তার মেনে নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সে জানতো এটাই তৃষ্ণার আসল রূপ কিন্তু সেই রূপ টা নিজের চোখে দেখতে তার কলিজা টা ছি’ড়ে যাচ্ছে। তবুও নিজেকে যথা সম্ভব শান্ত রেখে নির্ঝর তৃষ্ণার দিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছি’ল্যের হাসি হাসলো।
— দুপুরের মধ্যে দশ লাখ ক্যাশ পেয়ে যাবে।
নির্ঝ’রের সাথে আর কথা না বাড়িয়ে ওপরের ঘরে চলে এলাম যেখানে আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল।
৫ পর্বের জন্য নেক্সট কমেন্ট না করে আইডিটা ফলোয়ান বা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দি’য়ে রাখলে আমি পোস্ট করার সাথে সাথেই আপনাদের কাছে চলে যাবে তৃষ্ণার যাওয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নির্ঝর। জীব’নের দ্বিতীয় ধাক্কাটা সে আজ পেলো তৃষ্ণার আসল চেহারা টা দেখে। এতোদিন তৃষ্ণার প্রতি করা অত্যা’চারের জন্য নি’র্ঝরের মনে অনুশো’চনা কাজ করলেও আজ যেনো সেটা কোথাও মিলিয়ে গেলো। এখন নি’র্ঝরের মনে হচ্ছে সে যা করেছে একদম ঠিক’ করেছে।
ঘরে ঢুকেই নিজেকে ওয়াশরুমে বন্দী করে নিয়ে শাওয়ারের নিচে ধপ করে বসে পরলাম। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে আরেক দফা ঝড় নেমে এলো আমার জীবনে। কোথায় আমি ভেবেছিলাম এই বন্দী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু ভাগ্য তো আমায় সেই কারাগারেই এনে ফেলো দিলো !

কয়েক ঘন্টা আগে ঘুম ভাঙতেই নিজেকে নির্ঝ’রের বুকে আবিষ্কার করলাম। লোকটা এতোটা বাজে যে আমি প্রতিবার তার খারাপ দিক গুলো দেখে আগের থেকেও বেশি হতাশ হই। এতোকিছু করার পর আবার আমাকে বুকে নিয়ে ঘুমাচ্ছে। নির্ঝরের বুক থেকে আস্তে করে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। নির্ঝরের শরীর থেকে বিশ্রি মদের গন্ধ আসছে। না জানি কতো মদ গি’লেছেন সারারাত। বিছানা থেকে উঠে ব্যাল’কোনির সামনে গিয়ে দাড়াতেই দেখলাম ব্যালকোনির কাচ খোলা। হয়তো মদের নেশায় নির্ঝর কাচ লক করতে ভুলে গেছেন। এই সুযোগ টা হাত ছাড়া করা যাবে না কিছুতেই।

ধীর পায়ে আলমারি খুলে আমার পড়ে আসা বিয়ের শাড়িটা বের করে ব্যালকোনির রেলিং এর সাথে শক্ত করে বেঁধে নিলাম। পুনরায় ঘরের সামনে এসে নির্ঝরকে একনজর দেখার উ’দ্দেশ্যে কাচের আড়াল থেকে ভিত’রের দিকে তাকালাম। এখানে আসার পর থেকে শুধু যাও’য়ার চিন্তাই করেছি। কিন্তু আজ যখন চলে যাচ্ছি তখন বুকের বা পাশে চিনচিনে ব্যথা করছে। নির্ঝরের ঘুমন্ত মুখ’টার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে সময় যদি এখানেই থেমে যেতো! কিছুক্ষণ সময় এভাবেই পার করে দিয়ে শাড়ি বেয়ে নেমে পরলাম।

আবছা আলো আর আবছা অন্ধকারের খেলা খেলছে প্রকৃতি। ভোরের সময়, পক্ষীকূল ছাড়া আর কেউ নেই রাস্তায়। পিচ’ঢালা রাস্তা দিয়ে গন্তব্যহীন ছুটে চলছি। বহু কষ্টে নির্ঝরের গার্ডদের নজর এড়িয়ে পালি’য়েছি। চাচির কাছে যেতে পারবো না, চাচি আবার নির্ঝরের কাছে ফিরিয়ে দেবে। এখন আমার একটাই যাও’য়ার জায়গা আছে। তন্ময়! এক’মাত্র তন্ময়ই আছে যে আমাকে নি’স্বার্থ ভাবে বিশ্বাস করে। আমার কেয়ার করে। তন্ময় আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না, আমার সমস্যা টা বুঝতে পারবেন! কতোদিন হয়ে গেছে তিতলিকে দেখি নি। তিত’লিকে বুকে জরিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেই নি। না জানি আমার মেয়েটা আমাকে ছাড়া কিভাবে আছে !
.
.
.
রাস্তায় জগিং করতে থাকা এক মহিলার কাছে থেকে মোবাইল নিয়ে তন্ময়কে ফোন দিলাম। তন্ময়কে ফোন দিলে তন্ময় একটা হাসপাতালের ঠিকানা দিলো যাওয়ার জন্য। কার শরীর খারাপ হলো? তন্ময় অসুস্থ নয়তো? হাসপাতাল কাছে থাকায় হেটেই রওনা হলাম। কিছুক্ষণ হাটার পর হসপিটালে পৌঁছে গেলাম।হসপিটালের করিডোরে এপাশ থেকে ওপাশ পায়চারি করছে তন্ময়। আমাকে দেখে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন সে। কিছুই বুঝতে পারছি না অসুস্থ কে?

— তন্ময় আপনি কাঁদছেন কেনো? আর হসপিটালে এডমিট কে?
— তিতলি! তিতলি ভালো নেই তৃষ্ণা। তিতলির হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে। তন্ময়ের মুখ থেকে তিতলির অসুস্থার কথা শুনে মনে হলো আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো। বিশ্বাস করতে পারছি না আমার তিতলি, আমার পিচ্ছি সোনার হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে !— আপনি এসব কি বলছেন? কখন হলো এসব? কিভাবে হলো?
— তুমি যাওয়ার পর তোমার জন্য কান্না করতে করতে তিতলি অজ্ঞান হয়ে যায়। হসপিটালে আনলে ডাক্তার বলে দ্রুত হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে।— আমার তিতলি কেমন আছে? কোথায় আমার কলি’জার টুকরা? আমাকে নিয়ে চলেন ওর কাছে! আমি সাম’নের দিকে এগিয়ে গেলে তন্ময় আমার হাত টেনে ধরলেন।
— তিতলির সাথে ডাক্তার দেখা করতে বারণ করেছে। তিতলির সামনে কথা বলা যাবে না।
আমার বুক ফেঁটে কান্না আসছে, এতোটুকু বাচ্চা মেয়ের সাথেই কেনো হলো এসব? আমার সাথেও তো হতে পারতো ! তন্ময় আমাকে তিতলির কেবিনের বাইরে থেকে তিতলিকে দেখালেন। হসপি’টালের একটা কেবিনে কি সুন্দর ঘুমিয়ে আছে। আমি ভিতরে ঢুকতে চাইলেও তন্ময় আমাকে ঢুকতে দিলেন না।

— ডাক্তার কি বলেছে? তিতলির ট্রিটমেন্টের প্রগ্রেস কতোদূর?
— ট্রিটমেন্ট শুরু হয় নি। বিশ লাখ টাকা লাগবে তিতলির ট্রিটমেন্টে।
— বিশ লাখ!
— তুমি তো জানোই তৃষ্ণা আমি ছোট একটা চাক’রি করি। স্বপ্নেও বিশ লাখ টাকা জো’গার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই হাল ছেড়ে দিচ্ছি ধীরে ধীরে। হয়তো তি’তলিকে আর বাঁ’চাতে পারবো না।
— নাআ! এসব আপনি কি বলছেন? আমার মেয়েকে আমি বাঁচাবো। কিছু হবে না তিতলির। আমি টাকা জোগার করবো।
— তুমি এতো টাকা কোথায় পাবে?

— যেভাবেই হোক আমি সব টাকা জোগার করবো। প্রয়োজনে নিজেকে বিক্রি করে দেবো! তবুও তিতলিকে কিছু হতে দেবো না।
— আজকে বিকেলের মধ্যে দশ লাখ টাকা পেলে তিতলির ট্রিটমেন্ট শুরু করা যাবে।
— আপনি সব প্রিপেয়ার করুন আমি বিকেলের আ’গেই আপনার কাছে টাকা পৌঁছে দেবো!
— তুমি এতোদিন কোথায় ছিলে তৃষ্ণা? তিতলির অসুস্থায় আমি তোমার খুঁজ করতে পারি নি। চাচি বলেছিল সে নাকি তোমায় বেঁচে দিয়েছে?
— থাক সেসব কথা। আমি যাচ্ছি। টাকা পৌঁছে দেবো। তিত’লিকে দেখে রাখবেন। হসপিটাল থেকে বে’রিয়ে এলাম। এতোগুলো টাকা এই মুহূর্তে আমাকে শুধু নির্ঝরই দিতে পারবেন। তার বিনি’ময়ে সে কি চায় সেটাও আমি জানি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমা’র কাছে আর কোনো পথ খোলা নেই। তিতলির জীবন বাঁ’চানোর জন্য আমার নিজের জীবন বাজি রাখ’তেও আমি প্রস্তুত!

ওয়াশরুমের দরজায় ধাক্কার শব্দে ধ্যান ভেঙে গেলো আমার। বাইরে থেকে নির্ঝর রাগি কন্ঠে ডাকছেন,
— হোয়াট আর ইউ ডুয়িং? বের হও। ফাষ্ট!
চট জলদি গোসল সেরে নিলাম। বের হওয়ার আগে পরলাম বিপদে। আমার তো কোনো কাপড়ই নেই পরার মতো। যাও একটা শাড়ি ছিল সেটাও ভিজে গেছে। কিছুক্ষণ চিন্তা করে ওয়াশরুমে রাখা বাতরোবটা পরে বেরি’য়ে এলাম।নির্ঝর মদের গ্লাস হাতে বি’ছানায় বসে আছেন। আমি বেরু’তেই তার দৃষ্টি আমার দিকে দিলেন। উনার চোখ আমার সারা শরীরে বিচরণ করছে। বাতরোবটা একটু টে’নে টুনে ঠিক করে ঘরের ভিতরে ঢুকে গেলাম। নি’র্ঝর মদের গ্লাসে চুমুক দি’চ্ছেন আর আড়চোখে আমাকে দেখছেন। তার দৃষ্টিতে নেশা লেগে আছে’। সেটা মদের নেশা নাকি আমার শরীরের সেটা বুঝতে’ পারছি না। এতোদি’ন যার থেকে আ’মি পালিয়ে এসেছি, আজ তার কাছে নিজেকে সপে দিতে হবে! ভাবতেই দুচোখ ভেঙে কান্না আসছে।নির্ঝর গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বললেন,

— বিছানায় একটা প্যাকেট রাখা আছে। নিয়ে নাও।
— কি আছে?
— নিজেই দেখে নাও।
প্যাকেটটা খুলতেই পারপল কালারের একটা শাড়ি আর ম্যাচিং কিছু এক্সা’সারিজ পেলাম। কিছু না বলে শাড়িটা নিয়ে ওয়াশ’রুমে চলে গেলাম। শাড়িটা পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলাম। নির্ঝর এখনও আগের ভ’ঙ্গিতেই বসে আছেন। অবশ্য এখন তার হাতে ম’দের সাথে সিগারেটও আছে। একটা লোক এতো ড্রিংক কিভাবে করতে পারে! সারা দিন হাতে মদ আর সি’গারেট। অস’হ্যকর!
— বিকেলে তৈরি থেকো।
— কেনো?
— কাজী সাহেব আসবেন।
— কেনো?
— আমাদের বিয়ে করানোর জন্য।
— কিহ??

— হ্যাঁ। বিকেলে আমাদের বিয়ে হচ্ছে।
— আপনার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? আমি আপনাকে বিয়ে কেনো করবো? এটা তো কথা ছিল না!
— দেন কি কথা ছিল?
— কথা হয়েছিল আপনি আমাকে টাকা দিবেন বিনিময়ে আমি আপনার সব কথা শুনবো।
— ইক্সা’ক্টলি। তুমি আমার ক’থা শুনতে বাধ্য। আর আ’মি চাই আমাদের বিয়ে হোক।
— কিন্তু আমি আপনাকে বিয়ে করবো না। আর এমনিতেও আপনার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।
— দ্যাটস্ নান অফ ইউর বিজনেস। আমি যেটা চাই তুমি সেটাই করবে।
— না আমি এটা করতে পারবো না।
— তাহলে আমি তোমা’কে আর কোনো টাকাও দেবো না। আজকে একদিন এখান থেকে পালিয়ে গিয়েছো বলে নিজেকে কি মনে করছো? একবার নির্ঝর আহমেদ চৌধুরী ভুল করেছে বলে কি বারবার সেটা রিপিট করবে? You are wrong. তুমি আমার নেশার ঘোরে হওয়ার সুযোগ নিয়েছো। বারবার এটা পারবে না। সো আমাকে রাগিও না। যদি টাকা গুলো চাও দেন ম্যারি মি!

অসহায় দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা মেয়ের জীবন আমি কিভাবে নষ্ট করতে পারি! যার সাথে নির্ঝরের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, তার মনটা ভেঙে যাবে। হয়তো এই প্রতারণা টা সে কখনও মেনে নিতে পারবে না। ভিতর থেকে শেষ করে দেবে ওই মেয়েটাকে। কিন্তু আমিও যে নিরুপায়! তিতলিকে বাঁচাতে হলে আমার টাকাটা লাগবেই। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নি’র্ঝরকে হ্যাঁ সম্মতি দিয়ে দিলাম।
— ওহ ওয়ান মোর থিং। আমি কিন্তু তোমাকে সারা জীবনের জন্য বউ বানাচ্ছি না।
— মানে? কি বলতে চাইছেন?
— আই উইল ম্যারি ইউ ফর থ্রি মান্থস্। তারপর তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবো।
— কিহ! তিন মাসের জন্য মানে?
— এই তিন মাস তুমি আমার সাথে থাকবে। তুমি তো নিজেকে আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছো। এখন তোমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করলেও তুমি আমাকে বাঁধা দিতে পারবে না। কিন্তু ইউ নো হোয়াট আমি এতোটা খারাপ নই যে বিয়ে ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক করবো।
— ছিঃ! আপনি কতোটা বাজে! আমার দুর্বলতার সুযোগ এইভাবে নিচ্ছেন।
— ওয়েট দুর্বলতার সুযোগ মানে! তুমি নি’জের লোভে আমার কাছে নিজেকে বিক্রি করেছো। সো আমার সামনে নিজেকে অবলা প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি তোমার নাটকে পরছি। তোমার এই চোখের পানির মায়া’জালে আমাকে আটকাতে পারবে না। নির্ঝর আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সেখান থেকে চলে গেলেন। হাটু ভেঙে ধপ করে মাটিতে বসে পরলাম। এবার আর আমার চোখের পানি বাঁধ মানছে না। এতোটা নিকৃষ্ট আমি কিভাবে হতে পারলাম! নিজেকে বিক্রি করে দিলাম, এখন অন্য একটা মেয়ের ঘর ভা’ঙতে যাচ্ছি। এ কোন খেলায় আটকে গেলাম আমি!চলবে…………………………..