• আজঃ শনিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব নিতে চান সাবেক অলরাউন্ডার “খালেদ মাহমুদ সুজন “

বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট।তাঁর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিসিবির জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করেন না বোর্ড পরিচালক ও খুলনার টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ। স্থানীয় কোচদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার পক্ষে তিনি। সুযোগ পেলে নিজেও দায়িত্ব নিতে আগ্রহী

চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে খুলনা টাইগার্সের অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১১টায়। বাধ্যতামূলক অনুশীলন ছিল না। ঐচ্ছিক অনুশীলন, ক্রিকেটাররা ইচ্ছে করলে নাও করতে পারেন। প্রায় ১০ মিনিট দেরি করে মাঠে ঢুকেছে খুলনার একাংশ। পুরো দল আসেনি। মুশফিকুর রহিম যেমন অনুশীলন না করে থেকে গেছেন হোটেলেই।

খুলনার টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ দল নিয়ে মাঠে ঢুকে বেশি দেরি করেননি। ক্রিকেটাররা খানিকটা গা গরমের পর নেমে পড়লেন নেটে। তখন কোচ জেমস ফস্টার ও টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবালের সঙ্গে একপ্রান্তে শলাপরামর্শ করছিলেন খালেদ মাহমুদ। জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক আবার বিসিবির পরিচালকও। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠে এল চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক এ প্রোটিয়া। বিসিবি তাঁর সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করলেও ছয় মাস না পেরোতেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এই প্রোটিয়া। নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব পাওয়াতেই তাঁর এমন সিদ্ধান্ত।

ল্যাঙ্গেভল্টের চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিসিবির জন্য বড় ধাক্কা কি না, এ প্রশ্নের জবাবে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘খুব যে বড় বেশি ধাক্কা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ আমাদের ছেলেরা এখন অনেক কোচিং পেয়ে গেছে আসলে। অনেক কোচের অধীনেই ছিল। আমার মনে হয় দ্রুতই কাউকে নিয়ে নেবে বিসিবি। তাই হয়তো গ্যাপটা থাকবে না। দলের প্রধান কোচ আছেন, বাকি ম্যানেজমেন্ট আছে। একজন কোচ আসেন, চলেও যান। এটাই নিয়ম। কিন্তু আমাদের অবশ্যই একজন বোলিং কোচ লাগবে।’

কোচ আসবে আবার চলেও যাবে, এটাই নিয়ম তা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু জাতীয় দলের খেলার মান বাড়াতে কোচদের দীর্ঘ মেয়াদে রাখাটা তো প্রয়োজন। তাই চুক্তিপত্রে এ শর্তটা থাকা উচিত কি না, এ প্রশ্ন করতেই বিসিবি পরিচালক মনে করিয়ে দিলেন, ‘সব চুক্তিপত্রেই কিন্তু এমন (শর্ত) থাকে। আবার একটা শর্তও থাকে দুই পক্ষই কোনো সমস্যা থাকলে নোটিশ দিয়ে টার্মিনেশন করতে পারবে। তবে আমি দীর্ঘ মেয়াদের পক্ষে। একটা দল গোছাতেও সময় লাগে। তাই লম্বা সময় হলে অবশ্যই ভালো।’

অন্যান্য দেশে সাবেক ক্রিকেটারদের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে নেওয়ার নজির কম নেই। খালেদ মাহমুদ নিজেও দু-বার অস্থায়ী ভিত্তিতে দেশের জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সাবেক এ অলরাউন্ডার তাই পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেলে আগ্রহী কি না এমন প্রশ্নও ছুটে গেল তাঁর দিকে।

খালেদ মাহমুদের জবাব, ‘সুযোগ তো পেলে সবাই আগ্রহী হবে। আমার পেশা তো কোচিং, আগ্রহের ব্যাপার অবশ্যই আছে। এর আগেও দু-বার আমি বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি, যদিও বলাই ছিল সেটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তারপরও যখন থাকি, কিংবা ফল খারাপ হয় তখন মনটা খারাপ লাগে।’

নিয়মিত আপডেট পেতে “প্রবাস জীবন” ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

মাহমুদ এরপর কোচের দায়িত্ব নিয়ে নিজের দর্শনটা বুঝিয়ে বললেন, ‘আমি এর আগেও বলেছি দীর্ঘ মেয়াদে (কোচিং) করতে পারলে ভালো। স্বল্প সময়ে একটা দলকে গোছানো কখনো সম্ভব না। আমার (কোচিং) দর্শন এবং আরেকটি কোচের দর্শন কিন্তু একরকম হবে না। আর এই দর্শন নিয়ে কাজ করতে গেলে সময় লাগে। বাংলাদেশ দলকে আমি খুব কাছ থেকে দেখি, ছেলেদেরও জানি। আবার এটাও দেখতে হবে বিদেশি কোচ এলে ছেলেদের মধ্যে যে উত্তেজনা কাজ করে সেখানে স্থানীয় কোচদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু।’

ক্রিকেট ছাড়ার পর কোচিং থেকে সংগঠক পর্যায়ে নানা দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাহমুদ মনে করেন স্থানীয় কোচদের একটা সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে। খুলনার প্রধান কোচ জেমস ফস্টারের উদাহরণও দিলেন খালেদ মাহমুদ, ‘বাংলাদেশে যারা ভালো কোচিং করাচ্ছে তাদের একটা সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে। আমি জেমস ফস্টারের কথাই বলি খেলা ছাড়লেন এই তো সেদিন, ২০১৮ সালে, এক বছরের মধ্যেই কিন্তু বিপিএলের হেড কোচ হচ্ছেন। সে সুযোগটা কিন্তু আমাদের ছেলেদের নেই। বিসিবির উচিত স্থানীয় কোচদের তুলে আনা কাজের সুযোগ করে দেওয়া, সেটা জাতীয় দল হতে পারে এইচপিতে হতে পারে। কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও দেখি বিদেশি কোচ আছে। যদিও গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আমি। দোষটা আমারও কিছুটা আছে। আমি মনে করি এখানেও স্থানীয় কোচদের নিয়ে চিন্তা করতে পারি।