• আজঃ রবিবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের মিউটেশনের হার সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মিউটেশনের হার সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ৬ শূন্য ভাগ। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশে মিউটেশনের গড় হার ৭ দশমিক ২৩ ভাগ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ-(বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ দেশের আট বিভাগ থেকে সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা বিশ্লেষণ করে এক প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

বিসিএসআইআর-এর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি কোভিড-১৯ জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রতিবেদন অবহিতকরণ সভায় অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ আরোও জানান, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও মিউটেশনের জিনগত বৈশিষ্ট্য, নন-সিনোনিমাস মিউটেশন এবং জেনোমিক ফাইলোজেনি পর্যবেক্ষণ করে দেশে পাঁচ ধরনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি। দেশের আট বিভাগ থেকে সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়। যা গত মে মাসের ৭ তারিখ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এসব ডাটা সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল ভাইরাসের সংক্রমণ, মিউটেশনের হার, জিনগত বৈচিত্র, নন-সিনোনিমাস মিউটেশন এবং জিনোমিক ফাইলোজেনি পর্যবেক্ষণ করা। গবেষণার ফলাফলকে কোভিড-১৯ মহামারি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যবহার করা। সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্যকারী ভ্যারিয়েন্ট জি-৬১৪ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

২৬৩টি সার্স কোভ-২ জিনোম বিশ্লেষণে ৭৩৭ পয়েন্টে মিউটেশন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩৫৮ নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বার্ষিক মিউটেশনের হার ২৪ দশমিক ৬৪ নিউক্লিওটাইড। স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩টি নিউক্লিওটাইড মিউটেশনের মধ্যে ৫৩টি নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটে যার মধ্যে পাঁচটি স্বতন্ত্র যা বিশ্বে আর কোথাও নেই।

সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে চারটি মিউটেশন পুনরাবৃত্তি লক্ষণীয়। গবেষণার ফলাফল প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি রিসার্চ পেপার শিগগিরই আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হবে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভাক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, আমেরিকার প্রতিষ্ঠান মর্ডানা, দ্য ইউনির্ভাসিটি ও অক্সফোর্ডসহ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা ৫০টি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের কোভিড-১৯ উপযোগী ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহায়তা করবে এবং বিসিএসআইআর তার অংশীদার হওয়ার গৌরব অর্জন করবে দাবি করেছে বিসিএসআইআর।