• আজঃ সোমবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

হযরত আবু বকর (রা :) যেভাবে সিদ্দিক উপাধীতে ভূষিত হয়েছিলেন

হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)
————————————-
রাসূলুল্লাহর (সা) নবুওয়াত লাভের ঘােষণায় মক্কায় হৈ চৈ পড়ে গেল। মক্কার প্রভাবশালী ধনী নেতৃবৃন্দ তার বিরােধিতায় কোমর বেঁধে লেগে যায়। কেউবা তাকে মাথা খারাপ, কেউবা জীনে ধরা বলতে থাকে। নেতৃবৃন্দের ইংগিতে ও তাদের দেখাদেখি সাধারণ লােকেরাও ইসলাম থেকে দূরে সরে থাকে। কুরাইশদের ধনবান ও সম্মানী ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র আবু বকর রাসূলুল্লাহকে (সা) সংগ দেন, তাঁকে সাহস দেন এবং বিনা দ্বিধায় তাঁর নবুওয়াতের প্রতি ঈমান আনেন।

এই প্রসংগে রাসূল (সা) বলেছেন : `আমি যাকেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি, একমাত্র আবু বকর ছাড়া প্রত্যেকের মধ্যে কিছু না কিছু দ্বিধার ভাব লক্ষ্য করেছি।’ এভাবে আবু বকর হলেন বয়স্ক আযাদ লােকদের মধ্যে প্রথম মুসলমান।

মুসলমান হওয়ার পর ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে দাওয়াতী কাজে আত্মনিয়ােগ করেন। মক্কার আশপাশের গােত্রসমূহে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। হজ্জের মওসুমে বিভিন্ন তাবুতে গিয়ে লােকদের দাওয়াত দিতেন। বহিরাগত লােকদের কাছে ইসলামের ও রাসূলের (সা) পরিচয় তুলে ধরতেন। এভাবে আরববাসী রাসূলুল্লাহর (সা) প্রচারিত দ্বীন সম্পর্কে অবহিত হয়ে তার ওপর ঈমান আনে। তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব ও চেষ্টায় তৎকালীন কুরাইশ বংশের বিশিষ্ট যুবক উসমান, যুবাইর, আবদুর রহমান, সা’দ ও তালহার মত ব্যক্তিরা সহ আরাে অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ (সা) যখন নবুওয়াতের প্রকাশ্য ঘােষণা দিলেন, আবু বকরের নিকট তখন চল্লিশ হাজার দিরহাম। ইসলামের জন্য তিনি তার সকল সম্পদ ওয়াকফ করে দেন। কুরাইশদের যেসব দাস-দাসী ইসলাম গ্রহণের কারণে নিগৃহীত ও নির্যাতিত হচ্ছিল, এ অর্থ দ্বারা তিনি সেই সব দাস-দাসী খরীদ করে আযাদ করেন।

তেরাে বছর পর যখন রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে তিনি মদীনায় হিজরত করেন তখন তাঁর কাছে এ অর্থের মাত্র আড়াই হাজার দিরহাম অবশিষ্ট ছিল। অল্পদিনের মধ্যে অবশিষ্ট দিরহামগুলিও ইসলামের জন্য ব্যয়িত হয়। বিলাল, খাব্বাব, আম্মার, আম্মারের মা সুমাইয়্যা, সুহাইব, আবু ফুকাইহ প্রমুখ দাস-দাসী তারই অর্থের বিনিময়ে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করেন। তাই পরবর্তীকালে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আমি প্রতিটি মানুষের ইহসান পরিশােধ করেছি। কিন্তু আবু বকরের ইহসানসমূহ এমন যে, তা পরিশােধ করতে আমি অক্ষম। তার প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। তার অর্থ আমার উপকারে যেমন এসেছে, অন্য কারাে অর্থ তেমন আসেনি।

রাসূলুল্লাহর (সা) মুখে মি’রাজের কথা শুনে অনেকেই যখন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝখানে দোল খাচ্ছিল, তখন তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। হযরত হাসান (রা) বলেনঃ মিরাজের কথা শুনে বহু সংখ্যক মুসলমান ইসলাম ত্যাগ করে। লােকেরা আবু বকরের কাছে গিয়ে বলেঃ আবু বকর, তােমার বন্ধুকে তুমি বিশ্বাস কর? সে বলেছে, সে নাকি গতরাতে বাইতুল মাকদাসে গিয়েছে, সেখানে সে নামায পড়েছে, অতঃপর মক্কায় ফিরে এসেছে।

আবু বকর বললেনঃ তােমরা কি তাকে অবিশ্বাস কর? তারা বললঃ হ্যাঁ, ঐতাে মসজিদে বসে লােকজনকে একথাই বলছে। আবু বকর বললেনঃ আল্লাহর কসম, তিনি যদি এ কথা বলে থাকেন তাহলে সত্য কথাই বলেছেন। এতে অবাক হওয়ার কি দেখলে? তিনি তাে আমাকে বলে থাকেন, তার কাছে আল্লাহর কাছ থেকে ওহী আসে। আকাশ থেকে ওহী আসে মাত্র এক মুহূর্তের মধ্যে। তাঁর সে কথাও আমি বিশ্বাস করি। তােমরা যে ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করছাে এটা তার চেয়েও বিস্ময়কর।

তারপর তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে গিয়ে হাজির হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর নবী, আপনি কি জনগণকে বলছেন যে, আপনি গতরাতে বাইতুল মাকদাস ভ্রমণ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। আবু বকর বললেনঃ আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল।

রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ হে আবু বকর, তুমি সিদ্দীক। এভাবে আবু বকর সিদ্দীক’ উপাধিতে ভূষিত হন।
————————————————
সূত্র: আসহাবে রাসুলের জীবনকথা (১)
লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ

নিয়মিত আপডেট পেতে “প্রবাস জীবন” ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন